বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস – ৩১শে মার্চ : জানেন কি ?

0
137
World Backup Day

বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস, ৩১শে মার্চ, আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় এই দিনটি। আমাদের প্রত্যেকেরই কম্পিউটারে, মোবাইলে, ট্যাবে, ক্যামেরাতে অথবা অন্য কোনো ডিজিটাল গ্যাজেট যেগুলি আমরা ব্যবহার করি তাতে এমন কিছু তথ্য থাকে যেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে যেমন সেগুলি কাজের ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও, অডিও যা কিছুই হতে পারে। আমাদের অনেকেই হয়তো এই গুরুত্বপূর্ণ ডেটা আলাদাভাবে স্টোর করার অভ্যাস নেই। প্রত্যেক বছর সারা বিশ্ব জুড়ে ৩১শে মার্চ দিনটি পালিত হয় World Backup Day হিসাবে, আমাদের প্রত্যেক কে সচেতন করার জন্য, ডিজিটাল তথ্য ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাস তৈরী করার জন্য।

ব্যাকআপ কি ?

আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ফাইল গুলি শুধুমাত্র একটি জায়গাতে যেমন আপনার কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাব, ক্যামেরাতে না রেখে দ্বিতীয় একটি মাধ্যমে কপি করে আলাদা ভাবে রেখে দেওয়ার প্রক্রিয়া। ধরাযাক আপনার কম্পিউটারে আপনার কিছু মূল্যবান ছবি রয়েছে সেটি আপনি এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্কে বা পেনড্রাইভে আলাদাভাবে কপি করে রাখলেন অথবা গুগল ড্রাইভে বা ড্রপ বক্সে আপলোড করে রাখলেন। এক্ষেত্রে কি হলো আপনি ব্যাকআপ নিলেন ও নিশ্চিন্ত থাকলেন কারণ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আপনার কাছে আফসোস নয়, বরং চিন্তা মুক্ত হওয়ার অপসন থাকলো 🙂

ডেটা ব্যাকআপ না নেওয়া অবস্থাতে,যার মোবাইল হারিয়েছে অথবা যার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করেছে একমাত্র সেই ব্যক্তি বুঝেছে ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া কতটা জরুরি !

Photo Credit : Andrew Neel

ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

আমরা যখন একটা ডিভাইস ব্যবহার করতে থাকি সেটা কম্পিউটার হোক বা মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র যার একটা স্থায়ী তথ্যভান্ডার আছে সেই তথ্যভাণ্ডারে জমা হতে থাকে বিভিন্ন তথ্য যেমন বিজ্ঞানীর গবেষণা, শিল্পপতির হিসাব, অফিস কর্মীর প্রেসেন্টেশন, ব্যাবসায়ীর ক্লায়েন্ট ডিটেলস, ফটোগ্রাফার এর ছবি, একজন সাধারণ মানুষের ছবি, গান, মুভি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর ফ্যাক্ট এটা যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের পরিমান বাড়তে থাকে আর তথ্য গুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে থাকে।

আচ্ছা, আপনি কি কখনো ভেবেছেন ? আপনার যে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা রয়েছে সেটি এইমুহূর্তে হারাতে হয় তাহলে কতটা ক্ষতি হতে পারে আর তার জন্য আপনি প্রস্তুত তো ? আপনি হয়তো এমনই বলবেন যে আমি এত বছর ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করছি দিব্যু চলছে ও কিছু হবে না, কিন্তু আসল ব্যপারটা হলো জীবন খুবই অনিশ্চিত, কিছু হয়ে গেলে আপনার কিছু করার নাও থাকতে পারে সবকিছু হারাতে হতে পারে আপনাকে। ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস খারাপ হতেই পারে। কম্পিউটার খারাপ হতে পারে, কম্পিউটার এর হার্ড ডিস্ক ক্র্যাশ করতে পারে, মোবাইল চুরির ঘটনা তো আমরা কমবেশি শুনে থাকি। এজন্য ব্যাকআপ নেওয়া সবসময়ের জন্যই ভালো।

কি কি ভাবে আপনার ডেটা লস হতে পারে

  • আপনার কম্পিউটার, মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস খারাপ হয়ে যাওয়া, বা ডিভাইস এর স্থায়ী তথ্যভান্ডার (সাধারণত হার্ড ডিস্ক) ক্র্যাশ করে যাওয়া।
  • ডিভাইস হারিয়ে যাওয়া / চুরি হয়ে যাওয়া।
  • ভুলবশত ডিভাইস ফরম্যাট করে ফেলা বা ফাইল স্থায়ী ভাবে ডিলিট করে ফেলা। যদিও ডেটা পুনরুদ্ধার করার অনেক রিকভারি সফটওয়্যার আছে তবে সব তথ্য উদ্ধার নাও হতে পারে।
  • এছাড়াও ভাইরাস এর কারণে আপনার ফাইল নষ্ট হতে পারে।

কিভাবে ডেটা ব্যাকআপ নেবেন ?

ডেটা ব্যাকআপ দুভাবে নেওয়া যেতে পারে এক অফলাইন মাধ্যমে ফিজিক্যাল ডেটা স্টোরেজ মিডিয়া যেমন এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ইত্যাদিতে কপি করে রেখে আর দুই অনলাইনে ক্লাউড স্টোরেজ মাধ্যমে ফাইল আপলোড করে রেখে।

অফলাইনে ব্যাকআপ কিভাবে নেবেন

  • এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক – কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ডেটা স্টোর করার জন্য এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক এর বেশ প্রচলন রয়েছে। এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক পোর্টেবল চাইলে সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা যায় এবং অন্যান্য স্টোরেজ মিডিয়ার থেকে অনেক বেশি ক্যাপাসিটির ও পাওয়া যাই বর্তমানে ১টিবি/২টিবি বেশি প্রচলিত হলেও ১৬টিবি অবধি পাওয়া যেতে পারে। একটা USB কেবলের মাধ্যমে এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক কে কম্পিউটার এর সঙ্গে কানেক্ট করা হয় এবং ডেটা আদান প্রদান করা যায় খুব সহজেই। সিগেট (Seagate), ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল (Western Digital), অ্যাডাটা (Adata), কিংস্টন (Kingston) ইত্যাদি কোম্পানির এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্ক মার্কেটে পাওয়া যাবে। হার্ড ডিস্কের প্রযুক্তির বদল ঘটেছে, এখন এসেছে সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD) যার ডেটা একসেস রেট পুরানো প্রযুক্তির থেকে বহুগুন দ্রুত, সেকারণে এসএসডি ড্রাইভ গুলোর দাম বেশি হয়।
  • পেনড্রাইভ – কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যাবহারকারীরা আমরা সকলেই পরিচিত এই পেনড্রাইভ টার্ম এর সঙ্গে, এমনকি এই পেনড্রাইভ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি আমরা। এক কম্পিউটার থেকে আর এক কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদান করি এমনকি বেশ কয়েক জিবি ডেটা থাকলে পেনড্রাইভের উপর নির্ভর করা যায়, তবে হার্ডডিস্ক এর তুলনায় এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি অনেক কম। বেশ কয়েক বছর আগে ২জিবি/৪জিবি/৮জিবি পেনড্রাইভ এর বেশ চল ছিল মানুষের প্রয়োজন বেড়েছে এখন ৬৪জিবি/১২৮জিবি পেনড্রাইভ অনেকেই ব্যবহার করেন। কম্পিউটারের USB পোর্টে কানেক্ট করেই পেনড্রাইভ ব্যবহার করে ডেটা আদান প্রদান করা যায়। বর্তমানে পেনড্রাইভেও প্রযুক্তি বদল হয়েছে শুধুমাত্র কম্পিউটারে নয় এখন মোবাইলেও সরাসরি পেনড্রাইভ ব্যবহার করা যায়। বাজারে রয়েছে On the Go Pen drive (ওটিজি পেনড্রাইভ), এমনকি বেশ কিছু মডেল রয়েছে যেগুলি কম্পিউটার ও মোবাইল সবক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। আপনার স্মার্টফোনে ব্যবহার করার জন্য ওটিজি পেনড্রাইভে কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে আপনার মোবাইল হ্যান্ডসেট এর মডেল ওটিজি সাপোর্ট করে, তবে বর্তমানের প্রায় সমস্ত স্মার্টফোনই ওটিজি সাপোর্ট করে থাকে। SanDisk (স্যানডিস্ক), Kingston (কিংস্টন), Strontium (স্ট্রনটিয়াম), ইত্যাদি কোম্পানির পেনড্রাইভে মার্কেটে পাওয়া যায়।
  • মেমোরি কার্ড – মেমরি চিপ / কার্ড এই টার্মের সঙ্গেও আমরা বহুল পরিচিত। ডেটা ব্যাকআপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মেমোরি কার্ডের ব্যবহার খুবই কম। অনেকের কাছে পেনড্রাইভ নাও থাকতে পারে কিন্তু মেমরি কার্ড না থাকাটা বিশ্বাস করার মতো নয়, আমাদের প্রত্যেকের মোবাইলেই মেমোরি কার্ড রয়েছে। মেমরি কার্ড এর অনেক প্রকারভেদ রয়েছে আকার, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও ডেটা ট্রান্সফার রেট অনুযায়ী। ৬৪জিবি/১২৮জিবি মেমোরি কার্ড অনেকেই ব্যবহার করেন। অনেক মোবাইল, ক্যামেরা, ল্যাপটপে মেমরি কার্ড সরাসরি ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটারে ব্যবহার করতে গেলে কার্ড রিডার ডিভাইস প্রয়োজন হয়। আপনার কাছে থাকা তথ্য যদি কয়েক জিবির মধ্যে হলে মেমরি কার্ড এর মধ্যে রাখতে পারেন। মেমরি কার্ড মূলত ডকুমেন্ট, ছবি, গান ভিডিও রাখার জন্যই বিশেষ জনপ্রিয়।

অনলাইনে (ক্লাউড স্টোরে) ব্যাকআপ কিভাবে নেবেন

ক্লাউড স্টোরেজ একটি অভিনব প্রযুক্তি এর মাধ্যমে আপনার তথ্য খুব সহজেই অনলাইনে ব্যাকআপ নেওয়া যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী যখন খুশি পাওয়া যায় আর একই ডেটার অনেকগুলি প্রতিলিপি করে রাখা থাকে তাই ডাটা হারানোর চান্স কম থাকে এবং ক্লাউড স্টোরেজ সিস্টেম বেশ শক্ত পোক্ত প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকে ডেটা হ্যাক হওয়া (লিক/ব্রিচ) থেকে বাঁচতে। ইন্টারনেট কানেক্টেড যেকোনো ডিভাইস থেকে ক্লাউড স্টোরেজ এ আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আপলোড করতে পারবেন। আপনি যে ফাইলগুলি আপলোড করবেন সেগুলি পৃথিবীর মধ্যে কোনো ইন্টারনেট কানেক্টেড ডেটা সেন্টারের সার্ভারে রাখা থাকবে আর আপনার যখন প্রয়োজন তখনি যেকোন ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইস থেকে ব্যাকআপ রাখা তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবা প্রদানকারীর সফটওয়্যার/অ্যাপ আপনার কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাবে ইনস্টল করে নিলে ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে এমনকি অটোমেটিক ব্যাক আপ চালু করে নেওয়া যাবে। এইসমস্ত সুবিধাগুলি থাকার জন্য দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবা। আপনার ডেটা অনলাইনে ক্লাউডে রাখতে আপনাকে ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবা ব্যবহার করতে হবে এবং এর জন্য আপনাকে খরচ ও করতে হবে।

বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও বিস্বস্ত ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবার সন্ধান নিচে দেওয়া হল

পরিষেবা : গুগল ওয়ান
লিংক : https://one.google.com/
মাইক্রোসফট ওয়ান ড্রাইভ
লিংক : https://products.office.com/
ড্রপবক্স ক্লাউড
লিংক : https://www.dropbox.com/
অ্যাপেল আই ক্লাউড
লিংক : https://www.icloud.com/

তাহলে এবার থেকে ডেটা ব্যাকআপ নেবেন !

শুধুমাত্র ওয়ার্ল্ড ব্যাকআপ ডে তেই নয় , নিয়মিত নেবেন।

ডেটা ব্যাকআপ নিন আর নিশ্চিন্ত থাকুন!

আরও দেখুন >

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here